আমার সম্পর্কে

একজন মোগল খাঁ

(আমার পূর্বপুরুষ-আমি যার উত্তরসূরী)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সুপ্রিয় পাঠক। আপনাকে শুভেচ্ছা। যদি আপনি হোন কোন রসাত্মক বা রোমান্টিকতার ভক্ত, তাহলে আপনি রীতিমত বিরক্ত হবেন এ লিখনি পড়ে। গল্প, উপন্যাস বা নিরস সাহিত্যের প্রত্যাশী হলে আপনি হবেন আশাহত। কারণ আমার এ লিখনি আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন মোঘল খাঁন কে নিয়ে। মোঘল খাঁন বিরাট কেহ নন। কিন্তু এই মোঘল খাঁন বিরাট ব্যক্তিত্ব তাদের নিকট, যাদের মাধ্যমে মোগল খাঁন দোয়া প্রাপ্ত। আর এই মোঘল খাঁন থেকেই আজ সৃষ্টি হয়েছে বিরাট জনগোষ্ঠী। হ্যাঁ, আমি লিখছি আমার পূর্ব পুরুষ মোঘল খাঁন থেকে। মোঘল খাঁন কে? মোঘল খাঁনের বাবা, দাদাইবা কারা তা বলা মুশকিল। মোঘল খাঁন এর পূর্বসূরী যারা, তাদের কোন সন্ধান পেতে যেহেতু আমরা ব্যর্থ হলাম। সেহেতু আশংকা হল আমাদের পরবর্তীরা হয়ত এই মোঘল খাঁনকেও খোঁজে পাবেনা। আমরা যাদের দাদা হবো, তারা বা তৎপরবর্তীরা হয়তো আমাদেরকেও জানবেনা। তাই পূর্ব পুরুষ মোঘল খাঁন থেকে বিস্তৃত হয়ে আজ পর্যন্ত আমরা যারা এ ধরনীর আলো বাতাসে। তাদেরই পরম্পরা আমার এ লিখনির উদ্দেশ্য। এ কাজে তথ্য দিয়ে প্রধান সহযোগিতা করেছিলেন আমার শ্রদ্ধাভাজন মরহুমা দাদীজি-যাকে মোল্লাদাদীজি বলে ডাকতাম। আল্লাহর তাকে নিয়ে গেছেন তার কাছে, আল্লাহ্ যেন মেহেরবানী করে তাঁকে জান্নাতের মেহমান করেন-এ মুনাজাত রাহমানুর রাহীমের বরাবরে।

মোঘল খাঁন থেকে আমাদের বংশ পরম্পরা লিখতে গিয়ে আমার শ্রদ্ধেয় পিতার বলা একটা রসাত্মক ঘটনা সংযোজন অপ্রাসঙ্গিক হবেনা মনে করছি। জনাব আব্দুস সামাদ ও আবেজা বিবির সন্তান আমার আব্বা জনাব মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ (গ্রাম সরকার)। নানার বাড়ী বিয়ানী বাজারের গাংকুল এলাকায়। নানার বাড়ীর এলাকায় একটা বাড়ী কিনার জন্য আমার ‘বাজান’ জনাব মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ তাঁর নানার সাথে বাড়ী দেখতে গেলেন। উদ্দেশ্য বাড়ী কিনতে পারলে পিতৃভূমি চান্দগ্রাম থেকে হিজরত করে ঐ গাংকুলের বাড়ীতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করবেন। সে সময়কার যুবক নাতি আব্দুল ওয়াহিদ যাচ্ছেন তাঁর নানার সাথে। পথে দেখা হল জনৈকের সাথে।

“মিয়া ভাই, সাথে কে?” জনৈকের প্রশ্ন।

নানা উত্তর দিলেন-“আমার আবেজার ফুয়া (ছেলে)”।

বাড়ী ফিরে নাতি আব্দুল ওয়াহিদ নানাকে প্রশ্ন করলে-“নানাজি, গাংকুল কি কিয়ামতের ময়দান হয়ে গেল”?

নানা নাতির প্রশ্নে আশ্চর্য হয়ে হেতু জিজ্ঞেস করলেন নাতিকে। তখন নাতি আব্দুল ওয়াহিদ বললেনঃ “আমি যতদূর জানি, কিয়ামতের দিন সন্তানের পরিচয় হবে মায়ের নামে। পথে আপনি ঐ ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে বললেন আমি আবেজার ছেলে। আমার কি বাবা নেই? যে জন্য মায়ের নামে পরিচয় দিলেন। তাই ভাবছি গাংকুল কি কিয়ামতের ময়দান হয়ে গেল”। উল্লেখ্য যে, বাপের পরিচয় নয়, বরং মায়ের পরিচয়ে পরিচিত হতে হবে বলে যুবক আব্দুল ওয়াহিদের আর বাড়ী কিনা হলোনা।

বাবার পরিচয়েই বংশের পরিচয় হয়। বাবা থেকে তথা পুরুষের মাধ্যমেই বংশের পরিচয় হয়, বিস্তৃতি ঘটে। তাই আমরা এ পর্যায়ে যখন মোঘল খাঁনের বংশ পরম্পরা নিয়ে আলোচনা করবো, তখন ঐ বংশের মহিলা সদস্যদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবোনা। তাছাড়া এ বংশের অনেকে ভারতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করায় এবং বাংলাদেশের সাথে কাংখিত যোগাযোগ না থাকায়, তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলেচনা করা অসম্ভব হবে। বিধায় সংশ্লিষ্টদের কাছে শুরুতেই বিনীত ভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। সাথে সাথে নিবেদন সকল পাঠক বরাবরে, যদি এতে কোন অসংগতি ধরা পড়ে, কোন ভূল দৃষ্টি গোচর হয়ে, তাহলে তা মেহেরবানী করে জানাবেন-কল্যাণের প্রত্যাশায়। আমরা পরবর্তীতে তা সংশোধনের প্রয়াস চালাবো। আল্লাহ পাক আমাদের যাবতীয় প্রচেষ্টাকে ইবাদত হিসাবে কবুল করুন। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মোঘল খাঁন ও তার সন্তানদের জান্নাতের মেহমান করুন। এ লিখনির মাধ্যমে আমাদের সাথে আমাদের মহব্বত সৃষ্টি করে দিন। আত্মীয়তা ও রক্তের সম্পর্কের সম্মানকে রক্ষা ও সুদৃঢ় করণে আরো তৎপর হওয়ার তাওফীক দিন। আমীন॥

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম
পিতাঃ মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ (গ্রাম সরকার)
চান্দগ্রাম, বড়লেখা, মৌলভী বাজার।
দোহা-কাতার।
তারিখঃ ২৫ আগষ্ট ২০০৪

মোগল খাঁন

((একজন মোঘল খাঁন। যেখানে রয়েছে আগষ্ট ২০০৪ র্পযন্ত চান্দগ্রামের বড় গোষ্ঠীতে জন্মগ্রহণকারী সকলের বংশ পরিচয়। আপনি যদি বড় গোষ্ঠীর কেউ হন, তাহলে মনযোগ দিয়ে পড়ুন, এখানে আপনার নামও রয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলে আপনার সর্ম্পকে আরো বিস্তারিত জানাতে পারেন, আমরা আপডটে করবো।))

মোগল খাঁনের পিতার নাম আমাদের জানা নেই। আমাদের জানা নেই তার পূর্ব ইতিহাস। যদি কেহ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন তাহলে আমরা পরবর্তীতে তা সংযোজনে ব্রতী হব। মোগল খাঁনের ছিলেন দুই ছেলে।

১. শেখ ছাড়াই।
২. শেখ জাটাই।

খাঁনের ছেলে খাঁন হবে। কিন্তু শেখ কেমনে হলেন তা আমাদের বোধগম্য নহে। মোগল খাঁনের স্থায়ী নিবাস ছিল পূর্ব বিয়ানী বাজারের কসবাতে । পুরাতন বাড়ী ছিদ্দেক আলী মিয়ার বাড়ী নামে পরিচিত। মোগল খাঁনের দু’ন্তান শেখ ছাড়াই ও শেখ জাটাই বাংলাদেশের মৌলভী বাজার জেলার বড়লেখা উপজেলাধীন নিজ বাহাদুর পুর ইউনিয়নের চান্দগ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন। শেখ জাটাই আর শেখ ছাড়াইয়ের সন্তানেরা এ চান্দগ্রামে বড় গোষ্ঠীর মানুষ নামে পরিচিত। শেখ ছাড়াই দিয়ে আমরা আলোচনা শুরু করব। পরবর্তীতে শেখ জাটাইয়ের আলোচনা পর্যায়ক্রমে আসবে।

শেখ ছাড়াই

(মোগল খাঁন > শেখ ছাড়াই)

শেখ ছাড়াই মোগল খাঁনের দুই পুত্রের একজন। আর ঐ শেখ ছাড়াইয়ের ছিলেন দুই ছেলে।

১. মুহাম্মদ তকী

২. মুহাম্মদ মুক্বীম

মোগল খাঁনের ছেলেরা যেমন খাঁন না হয়ে শেখ হওয়া বোধগম্যহীন, তেমনি বোধগম্যহীন বিষয় শেখ ছাড়াই ও শেখ জাটাইয়ের ছেলেরা শেখ না হওয়া।

মুহাম্মদ তকী

(মোগল খাঁন > শেখ ছাড়াই > মুহাম্মদ তকী)

মুহাম্মদ তকী শেখ ছাড়াইয়ের দুই ছেলের একজন। মোগল খাঁনের নাতি মুহাম্মদ তকী ছিলেন নিম্নোক্ত ৬ ছেলের গর্বিত পিতা।

১. মুহাম্মদ মাজুম

২. মুহাম্মদ আলী মাষ্টার

৩.মুহাম্মদ মুনশী মোল্লা।  উল্লেখ্য যে, আমি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এই মুনশী মোল্লারই উত্তরসূরী। বিধায় আমাদের আলাচনা অগ্রসর হবে মুহাম্মদ তকীর তৃতীয় পুত্র মুহাম্মদ মুনশী মোল্লাকে নিয়ে।  আর মুহাম্মদ তকীর অন্য ৫ পুত্রের বংশ ধারা সম্পর্কে এখানে আলোচনা করবো না।

৪. নসর মুহাম্মদ

৫. মুহাম্মদ তুরাব

৬. মুহাম্মদ মনসব

মুহাম্মদ মুনশী মোল্লা

(মোগল খাঁন > শেখ ছাড়াই > মুহাম্মদ তকী > মুনশী মোল্লা)

প্রিয় পাঠক! আপনাদের নিয়ে যেতে চাই মুহাম্মদ তকীর কাছে। যেখানে আমার আলোচনা করছিলাম মুহাম্মদ তকী সম্পর্কে। মোগল খাঁনের নাতি মুহাম্মদ তকীর তৃতীয় ছেলে মুহাম্মদ মুনশী মোল্লা। একেতো মুনশী, তার উপরে মোল্লা। কিন্তু মাদ্রাসার বারান্দায় পা দিয়েছিলেন কিনা, তা গ্রন্থকারের অজানা। মুনশী মোল্লার স্ত্রীর নাম আমাদের জানা নেই। সেই মুনশী মোল্লা ছিলেন ৬ সন্তান। যারা সবাই গ্রন্থকারের দাদা ও দাদি। আর তারা হলেনঃ

১. মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ-যিনি গ্রন্থকারের আপন দাদা।

২. মুহাম্মদ আব্দুল আজীজ

৩. মাওলানা আব্দুল মজিদ

৪. মুহাম্মদ আব্দুল বশির

৫. কটি।

৬. মড়ি।

মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ

(মোগল খাঁন > শেখ ছাড়াই > মুহাম্মদ তকী > মুনশী মোল্লা > সামাদ)

গ্রন্থকারের দাদা, মানে পিতার বাপ এই জনাব মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ। মোগল খাঁনের নাতি মুহাম্মদ তকির নাতি। জনাব আব্দুস সামাদকে লোকজন খরানি বলে ডাকতো বলে জানা যায়। এঘটনা সত্য না হলে গ্রন্থকারকে লোকজন ‘খরানির নাতি’ বলে ডাকলে তাও সত্য হবেনা। কিন্তু আমরা খরানির নাতি হয়ে গর্বিত। তবে খরানির ছেলে ভাতিজা তথা আমাদের বাপ চাচার কাছে নামটা সুন্দর নাও লাগতে পারে। সেই আব্দুস সামাদ বিয়ে করেন দু’টি। প্রথমা স্ত্রীর নাম অজ্ঞাত এবং দ্বিতীয়া স্ত্রী আবেজা বিবি। জনাব আব্দুস সামাদ ৪ মেয়ে ও ৫ ছেলে মোট ৯ সন্তানের জনক। যারা হলেনঃ

১. আয়মুন নেসা-যার বিয়ে হয় বর্নি-গনেশার চকে।

২. ময়মুন নেসা-যার বিয়ে হয় পাতনে এবং যার সন্তানেরা বর্তমানে ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসরত।

৩. মুহিবুন নেসা-যার বিয়ে হয় পাকশাইলে।

৪. মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ-যিনি গ্রন্থকারের গর্বিত পিতা

৫. ফয়জুন নেসা-যার বিয়ে হয় আজিমগঞ্জের রফিনগরে।

৬. মুহাম্মদ আব্দুল মইদ

৭. মুহাম্মদ আব্দুল মতলিব (সাদ্দাম)

৮. মুহাম্মদ আব্দুর রকির(পেশকার)

৯. মুহাম্মদ আব্দুস সফিক (দর্জি)

মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ (গ্রাম সরকার)

(মোগল খাঁন > শেখ ছাড়াই > মুহাম্মদ তকী > মুনশী মোল্লা > সামাদ >ওয়াহিদ)

জনাব মুহাম্মদ আব্দুস সামাদের ৫ ছেলের বড় মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ। গ্রাম সরকার নামে সর্ব মহলে পরিচিত। কেউ কেউ তাকে আব্দুলইদ বলে ও ডাকতে শোনা যায়। জনাব মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ বিয়ে করেন দু’টি। প্রথমা স্ত্রী ছায়ারুন নেসা এবং দ্বিতীয়া স্ত্রী আংগুর বেগম। চার চার মিলে মোট ৮ সন্তানের জনক তিনি। আর তার সন্তানেরা হলেনÑ

১. মনোয়ারা বেগম-যার বিয়ে হয় চাচাত ভাই জনাব মুহাম্মদ রফিক উদ্দিনের সাথে।

২. নাজমা বেগম-যার বিয়ে হয় চান্দগ্রাম জিনালের জনাব মুহাম্মদ তজম্মুল আলীর সাথে।

৩. মুহাম্মদ নজিবুল ইসলাম

৪.মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

৫. জাসমিন বেগম-যার বিয়ে হয় আষ্টসাঙ্গনের জনাব মুহাম্মদ সুনার উদ্দিনের সাথে।

৬. মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

৭. ইয়াসমিন বেগম।

৮. মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম।


মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

(মোগল খাঁন > শেখ ছাড়াই > মুহাম্মদ তকী > মুনশী মোল্লা > সামাদ > ওয়াহিদ > নজরুল )

জনাব মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদের দ্বিতীয় পুত্র মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিয়ে করেন বিয়ানী বাজারের নালবহরে মিসেস শিফা বেগম কে। তাদের সন্তান-

১. মাহমুদাহ্ ইসলাম সুরভী।

২. মাহমুদ নাজার।

৩. মাইমুনাহ ইসলাম উমামাহ।

এই হলো মোগল খাঁ থেকে আমি পর্যন্ত আমাদের বংশ পরম্পরা। জনাব মোগল খাঁর বংশের পরিচয় নিয়ে বিস্তারিত একটা বই লিখা হয়েছিল ২০০৫ সালে। বইটি সময়ের সাথে সাথে আপডেট করা দরকার ছিল। কিন্তু প্রবাসে অবস্থান করা সহ নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে তা আপডেট হয়নি। বইটি পিডিএফ আঁকারে প্রদত্ত হলো। আমাদের বংশের কেউ যদি তা আপডেট করার জন্য উদ্যোগী হোন, তাহলে মোগল খাঁ থেকে নিয়ে বর্তমান পর্যন্ত আমাদের রক্ত সম্পর্কিয়দের একটা বিবরণী বেঁচে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।

একজন মোগল খাঁ বইয়ের পিডিএফ-ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close