শা’বান মাসে মুসলমানদে করণীয় বিষয়

PHOTO-IMAMফারুক আহমদঃঃহিজরী সনের অষ্টম মাস হল শা’বান মাস। পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের কাছে এমাসটি শবেবরাতের মাস হিসাবে পরিচিত। আমি এখানে শবেবরাতের আলোচনা বাদ দিয়ে শুধু মাত্র রাসূল সা. সুন্নাত মোতাবেক এ মাসে আমাদের কি করা উচিৎ সে বিষয়েই আলোচনা করতে চাই।

রাসূল সা. এর নিয়মিত অভ্যাস ছিল তিনি সপ্তাহে দুইদিন এবং চন্দ্রমাসের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখতেন। হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. দেখলেন রাসূল সা. শা’বান মাসে খুব বেশী রোযা রাখছেন, তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন আপনি এত বেশী রোযা রাখছেন কেন?

রাসূল সা. উসামার প্রশ্নের জবাবে যা বললেন তার সার সংক্ষেপ হল তিনটি কথা (ক) রজব ও রামাদ্বান মাসের মাঝখানের এ মাসটির ব্যাপারে মানুষ গাফেল থাকে। (খ) এ মাসে বান্দার আমলনামা আল্লাহর সামনে পেশ করা হয়। (গ) আমি চাই আমার আমল আল্লাহর সামনে এমন ভাবে পেশ করা হোক যেন আমি রোযা আছি (সুনানে নাসাঈ)

বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায় তিনটি সময় বান্দার অবস্থার আল্লাহর সামনে তুলে ধরা হয়। (ক) প্রতিদিন ফজর ও আসরের নামাযের সময় আল্লাহ ফেরেশতাদের কাছ থেকে বান্দাদের অবস্থা জানেন এবং তাদের ক্ষমা করে দেন, এজন্য ফজর ও আসরের নামাজের  গুরুত্ব এতো বেশী। (খ) সপ্তাহে একদিন আর তা হলো বৃহস্পতিবার, এজন্য রাসূল সা. ঐ দিন রোযা রাখতেন এবং তিনি বলতেন যে, আমি চাই আল্লাহর দরবারে আমার আমল এমন সময় পেশ করা হোক যেন আমি রোযা আছি। (গ) প্রবন্ধের শুরুতে যে হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে, তা থেকে জানা যায়, প্রতি বছর শা’বান মাসে আল্লাহর সামনে বান্দার আমল পেশ করা হয় এজন্য  রাসূল সা. এমাসে এত বেশী রাখতেন যে, উসাম রা. তার কাছে জানতে চাইলেন তিনি এত বেশী রোযা রাখেন কেন? জবাবে রাসূল সা. বললেন, আমি রোযা রাখি এজন্য যে, আমার আমল আল্লাহর সামনে পেশ করা সময় আমি যেন রোযা থাকি।

সুতরাং উল্লেখিত আলোচনা থেকে বুঝা গেল যে, শাবান মাসের অন্যতম ইবাদত হল বেশী বেশী নফল রোযা রাখা। কিন্তু আফসোসের বিষয় হল আমরা শুধু মাত্র শবে বরাতের রোযা রাখি। অথচ শবে বরাতের রোযার ব্যাপারে সহীহ কোন হাদীস পাওয়া যায় না। সহীহ হাদীস থেকে জানা যায় রাসূল সা. প্রতি সপ্তাহে দুই দিন রোযা রাখতেন সোম ও বৃহস্পতিবার এবং প্রতি চন্দ্রমাসে ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখ। সুতরাং আমাদের উচিত যদি সম্ভব হয় এমাসে সপ্তাহে দুই দিন সোম ও  বৃহস্পতিবার এবং ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোযা রাখা। শবে বরাতের রোয হয় শাবান মাসের ১৫ তারিখ, শুধু মাত্র ১৫ তারিখ রোযা রাখলে সুন্নাত আদায় হবেনা। সুন্নাত মোতাবেক রাখতে হলে তিন (১৩,১৪ ও ১৫) দিন  রাখতে হবে। কাজের ঝামেলা যদি সোমবার, বৃহস্পতিবার ও ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ না রাখতে পারেন, তাহলে যে দিন কাজ নেই সে দিন হলেও রোযা রাখেন। 

এমাসে রোযা রাখার উপকারঃ

ক. এ মাসে বান্দার আমল আল্লাহর সামনে পেশ করা হয় তাই আপনি যদি রোযা রাখেন তাহলে আপনার আমল এমন সময় উপস্থাপন করা হবে যখন আপনি রোযা আছেন।

খ. সারা বছর দিনের বেলা খাওয়ার অভ্যাস, তাই হঠাৎ করে রামাদ্বানে পানাহার বন্ধ করলে অনেক কষ্ট হয়, তাই কয়েকদিন আগে থেকে এ অভ্যাস করলে রমজানে তেমন কষ্ট হবেনা।

গ. রাসূল সা. বলেছেন, মানুষ  এ মাসের গুরুত্বের কথা ভূলে যায়। মানুষ যখন কোন এবাদতের ব্যাপারে গাফেল থাকে তখন যদি কেউ এবাদত করে আল্লাহ খুব ভালবাসেন তার ঐ বান্দাকে।

আসুন, এ শা’বান মাসটাকে ইবাদতের মাধ্যমে কাজে লাগাই, বিশেষ করে নফল রোযা রেখে, কুরআন তেলাওয়াত ও দান সাদাকার মাধ্যমে অতিবাহিত করি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে বেশী বেশী নেক আমল করার তাওফীক দিন। আমীন।

# লেখকঃ ইমাম, ড্যানফোর্থ ইসলামিক সেন্টার, টরন্টো, কানাডা। বড়াইল, শাহবাজপুর, বড়লেখা, মৌলভী বাজার।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s